চাঁদপুরে নির্বাচনী চোখ ফরিদগঞ্জ আসনে
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ
চাঁদপুর প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নান, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ হান্নান দল থেকে বহিষ্কার হলেও নেতাকর্মীদের অধিকাংশ তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর।
ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারি ২০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন। অন্য আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম থাকায় সবার চোখ এখন এই আসনে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩১ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৬০৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৭ জন। হিজড়া ভোটার ১ জন। জেলা পুলিশের তথ্যে এই আসনে একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৫৬টি।
এই আসনে এই তিন প্রার্থী ছাড়াও রয়েছেন জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম, ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন, গণফোরামের মো. মুনির চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুল মালেক বুলবুল ও স্বতন্ত্র ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন।
বিএনপি থেকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর শুরু হয় এই আসনে উত্তেজনা। বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তার নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরের সড়কে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য। বিষয়টি সামাল দিতে না পেরে দল থেকে পুরো উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এম এ হান্নানকে বহিষ্কার করে এবং হারুনুর রশিদকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীও সমান তালে প্রচারণায় রয়েছেন। এসব কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ।
বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নানের সমর্থকরা বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে আসছে। তার পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আমার গাড়িবহর এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এটি কখনো কাম্য নয়। তিনিও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জামায়াতের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আমরা সবসময় অন্য প্রার্থীদের প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।
চাঁদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনি বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
