চট্টগ্রামে চলছে ভোট গণনা

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোট চললেও দিনভর একাধিক কেন্দ্রে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। নির্বাচন চলাকালে আনোয়ারা উপজেলায় মোমবাতি প্রতীকের এক প্রার্থীর এজেন্টকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়। একই ধরনের ঘটনায় ফটিকছড়ি উপজেলার পূর্ব সুয়াবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে নগরের আকবর শাহ থানাধীন একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে মো. নুরুল আফসার (৪৫) নামের এক ভোটার আহত হন। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্র থেকে আবু বক্কর (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে সেনাবাহিনী।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের একাধিক কেন্দ্র ঘুরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সারিও লম্বা হতে দেখা গেছে। এবারে ভোটকেন্দ্রগুলোতে তরণদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিতে দেখা গেছে। কিছু কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ছিল।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটগ্রহণের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে ভোটের হারের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন, যেখানে ভোটের হার ৫২ শতাংশ। এছাড়া বান্দরবান আসনেও ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শহরের ভেতরের আসনগুলোতে ভোটের হার তুলনামূলক কম। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

একনজরে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের ভোটের হার: বান্দরবান (৪৬২৩): ৫০%, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই – ৪৬২৪): ৪৯%, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি – ৪৬২৫): ৩১%, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ – ৪৬২৬): ৪০%, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড – ৪৬২৭): ৪৭%, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী – ৪৬২৮): ৩২%, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান – ৪৬২৯): ৩৯%, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া – ৪৬৩০): ৪৭%, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী – ৪৬৩১): ৪১%, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী – ৪৬৩২): ৩৬%, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং – ৪৬৩৩): ৩৫%, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা – ৪৬৩৪): ৩১%, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া – ৪৬৩৫): ৪৯%, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা – ৪৬৩৬): ৪৫%, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ – ৪৬৩৭): ৪৯%, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া – ৪৬৩৮): ৫২%, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী – ৪৬৩৯): ৪৫%, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া – ৪৬৪০): ৫৪%, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া – ৪৬৪১): ৪৪%।

চট্টগ্রাম জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রগুলোর চেয়ে উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।