সাতক্ষীরায় জামানত হারাচ্ছেন ১১ প্রার্থী
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০ জনের মধ্যে ১১ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের প্রাপ্ত ভোট জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ (১২.৫%) ভোট পেতে হয়।
সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন তাঁদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। বাকি ১১ জনই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) এই আসনে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪৬ হাজার ৯৭৬টি ভোট। কিন্তু বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাদে বাকি তিন প্রার্থীর কেউই এই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে যেতে পারেননি।
এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল- ২ হাজার ৫৪৪ ভোট), শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা- ২ হাজার ৭১ ভোট) এবং মো. ইয়ারুল ইসলাম (ডাব- ৭১৫ ভোট)।
সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য দরকার ছিল ৪৯ হাজার ৪০৭টি ভোট। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপি ছাড়া বাকি সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: মো. আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল- ৪ হাজার ২৭৮ ভোট), মুফতী রবীউল ইসলাম (হাতপাখা- ১ হাজার ৯৭৬ ভোট) এবং মো. ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ি- ৩১৭ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) এই আসনে লড়াই ছিল ৬ জনের মধ্যে। জামানত রক্ষার জন্য ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও এখানে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন ৩য় হয়েও ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট পাওয়ায় তাঁর জামানত বেঁচে গেছে। তবে বাকি ৩ জন তা রক্ষা করতে পারেননি।
এদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম চমক দেখিয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও, সবার নজর কেড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তিনি ফুটবল প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনকে (৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট) প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিপুল জনসমর্থন পাওয়ায় ডা. শহিদুল আলম সগৌরবে তার জামানত রক্ষা করেছেন।
এ আসনে জামানত হারাচ্ছেন: মো. ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা- ২ হাজার ৪৯৭ ভোট), মো. আলিপ হোসেন (লাঙ্গল- ৭২২ ভোট) এবং রুবেল হোসেন (রকেট- ৫৮৩ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন জামানত রক্ষা করেছেন। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ভোট দরকার ছিল ২৫ হাজার ২৪৫টি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০ জনের মধ্যে ১১ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন।
