দিনাজপুরে শিমুল গাছে ফুলে ফুলে মেতেছে প্রকৃতি

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরে মহাসড়কে শিমুল গাছে ফুল ফুটে লাল শাড়ি পড়েছে। এ নান্দনিক দৃশ্য বসন্তের ফাল্গুনে প্রকৃতিকে যেন আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কালের বিবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তে এখন আর যেখানে-সেখানে চোখে পড়ে না রক্ত লাল শিমুল গাছ। সেই মূল্যবান শিমুল গাছ এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার করনাই গ্রামের আদিবাসী মহল্লায় বেশ কিছু শিমুল গাছ রয়েছে। ওই গাছে বসন্তের ফাল্গুনের শুরু থেকে রক্তিম রঙের ফুল ফুটেছে।

শুধু ফুল আর ফুল—পাতা নেই। ফুটন্ত এ ফুল যেন সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। এ রক্ত লাল থেকে সাদা ধূসর হয়ে তৈরি হয় তুলা। তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তিতে তুলা তৈরি ও ফোম ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিমুল তুলা ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে।

তবুও দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কের বাঁশেরহাট এলাকায় রাস্তার দুই ধারে লাল টুকটুকে শিমুলের বন শোভা বাড়িয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গাছের ফাঁকে ফাঁকে শতাধিক শিমুল গাছ দেখা যায়। পাখিরা উড়ে এসে বসছে লাল শিমুলের ডগায়। ঝড়ে পড়া শিমুলের লাল গালিচার দৃশ্যও চোখে পড়ার মতো।

বসন্তের আবহে গাছে গাছে পরিপক্ব শিমুল ফুল। কাকডাকা ভোরে রাস্তায় ঝরে পড়া ফুলগুলো দেখে মনে হয় যেন রক্তিম পথ। শিমুল ফুল না ফুটলে যেন বসন্ত আসে না।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে সংস্কৃতিচর্চারও একটি যোগসূত্র রয়েছে। গাছে গাছে ফুটন্ত শিমুলের লাল রঙ চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। দিনাজপুর হাবিপ্রবির ফরেষ্ট বিভাগের অধ্যাপক জানান, দুই দশক আগে গ্রামাঞ্চলে গাছে গাছে শিমুলের শোভা দেখা যেত, কিন্তু বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

দিনাজপুর বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক জানান, শহরের মিশন রোডের মোড়ে কালী মন্দিরের পিছনে একটি ঐতিহাসিক শিমুল গাছ ছিল, সেটি অযত্নে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। শিমুল গাছ ওষুধি গাছ হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ মানুষ এক সময় আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস ও কোষ্ঠ কাঠের নিরাময়ে শিমুলের মূল ব্যবহার করতো।

গোলাপগঞ্জ হাট এলাকার কবিরাজ দয়াল চন্দ্র রায় জানান, শিমুল গাছ গ্রাম বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিত। মানুষরা এ গাছের তুলা কুড়িয়ে বিক্রি করতো, নিজের গাছের তুলা দিয়ে লেপ, তোষক, বালিশও বানাতো।

বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তিতে তুলা তৈরি ও ফোম ব্যবহারের কারণে শিমুল তুলা ব্যবহার কমে গেছে। বাংলার চিরন্তন রূপ—শিমূল-পলাশের লাল সৌন্দর্য থেকে আমরা সরে আসছি। ফলে শিমুল গাছ বিলুপ্তির পথে। দেশের প্রকৃতি ধরে রাখতে বিলুপ্তি হওয়া গাছের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। তবে দেশের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরে আসবে।