দিনাজপুরে ভুট্টার ফলন ভালো, ছাড়িয়ে গেল লক্ষ্যমাত্রা
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরে ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। এমনকি ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রাও। ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৩৭০ সেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। জেলায় ভুট্টার আবাদ হয়েছে মোট ৭৫ হাজার ৬২০ সেক্টর জমিতে।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন ভুট্টা চাষের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় ৭২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের প্রণোদনার আওতায় উন্নতমানের ভুট্টার বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহযোগিতা করায়, দিনাজপুর জেলায় ভুট্টার অতিরিক্ত ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছ। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর জেলায় প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ মেট্রিক টন করে ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। গত বছর জেলার কৃষকেরা ভুট্টা চাষ করে কাটার পর কাঁচা ভুট্টা জমি থেকে ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পেরেছে। অনেকেই কাঁচা ভুট্টা শুকানোর পর বিক্রি করে আরো অতিরিক্ত লাভ করেছে। গত বছর ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় চলতি বছর জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এবারের জেলার পতিত জমিসহ নদীর চর অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বেশি হয়েছে। জেলার কৃষকদের দাবি নদীর চরে পতিত জমিগুলোতে ভুট্টা চাষে সেচ এর প্রয়োজন কম হয়। এজন্য কৃষকেরা কৃষি বিভাগের সাথে পরামর্শ করে এসব জমিতে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। ভুট্টা চাষে সফলতা এসেছে এবং ফলনেও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনাজপুর গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক জানান, ভুট্টার নতুন উদ্ভাবন করা ভ্যারাইটির উন্নত জাতের বীজ কাবেরি-৫৪, এমকে- ৪০, পালোওয়ান, সুপার-২১ সাহিন-২৩ কাবেরী-৪৪, সিনজেনটা-৭৭২০ সহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। জেলার উপজেলা গুলোতে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলায় অবস্থিত নদী গুলোর দুই তীরে ভুট্টা ছাড়া অন্য কোনো ফসল চোখে কমই পরে।
জেলার বিরল উপজেলার ধুকুরঝারি গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এবারে দেড় একর জমিতে কৃষি বিভাগের সরবরাহ করা উন্নত জাতের ভুট্টার চাষ করেছেন। ভুট্টার গাছে ফলন ভালো লক্ষ্য করা যাচ্ছ। আশা করি এবার ভাল ফোন পাওয়া যাবে। তার গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে কৃষকেরা অনেকেই ভুট্টা চাষ করেছে। তাদের সকলেরই প্রত্যাশা এবারে চাহিদার সাথে বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যাবে। অধিক লাভের আশায় এবার উপজেলায় আগাম জাতের ভুট্টা বেশি চাষ হয়েছে।
জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভুট্টা থেকে মাছ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদন এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি লাভজনক। তাই কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
