রংপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জে থানায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে র‌্যাবের যৌথ অভিযানে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোম্বামী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. নুর আমিন (৩৮) জেলার পীরগঞ্জ থানার কুমরসই এলাকার মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে।

তিনি জানান, মামলার আসামিদের সঙ্গে ভিকটিমের পারিবারিক বিষয়াদিসহ জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলমান ছিল। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে ভিকটিম নিজের ভুট্টা ক্ষেত থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে পীরগঞ্জ থানাধীন কুমরসই দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের পাকা রাস্তায় পৌঁছা মাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামলার আসামি তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তখন ভিকটিম গুরুতর আঘাতের ফলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন উদ্ধারের জন্য আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে রংপুর জেলা পীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেপ্তারে সচেষ্ট হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর এবং র‌্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জিএমপি, গাজীপুর সদর থানাধীন দক্ষিণ কাউলতিয়া বাউপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. নুর আমিন (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোম্বামী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ধরনের প্রতিটি হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদক চোরাকারবারীসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।