বিষমুক্ত আগাম টমেটো চাষে স্বাবলম্বী কৃষক মোহাম্মদ হারুন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
শওকত আলী, চাঁদপুর

বিষমুক্ত আগাম টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ হারুন।
এক সময়ের অভাব-অনটনের সংসার ছিল কৃষক মোহাম্মদ হারুনের। সে অভাব ও অনটনের সংসারকে পেছনে ফেলে হারুন সাহসিকতার সাথে টমেটো চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কৃষক হারুনের অদম্য সাহসিকতার ফলে সেই থেকে টমেটো চাষ শুরু করে আজ সচ্ছলতার গল্প-সবই সম্ভব হয়েছে বিষমুক্ত আগাম টমেটো চাষে।
চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী গ্রামের মোহাম্মদ হারুন (৫৫), একসময় দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। এখন তিনি এলাকায় পরিচিত ‘টমেটো হারুন’ নামে। ব্যবসায়ী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন।
পৈতৃক জমি না থাকায় দীর্ঘদিন অর্ধাহারে অনাহারে দিন কেটেছে মোহাম্মদ হারুনের। জীবনের মোড় ঘোরাতে ২০১০ সালে ৩০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন টমেটো চাষ। প্রথম বছরই আগাম টমেটো বিক্রি করে আয় করেন দেড় লাখ টাকা। সেই সাফল্যই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
এরপর থেকে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে প্রাক-শীত মৌসুমে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত টমেটো আবাদ করছেন হারুন। তার উৎপাদিত টমেটোর চাহিদা স্থানীয় বাজারে বেশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মৌসুমে গড়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা আয় হচ্ছে মোহাম্মদ হারুনের।
চলতি মৌসুমে ৬০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আশা করছেন প্রায় ৩০০ মণ ফলন হবে। ইতোমধ্যে কিছু টমেটো বিক্রি করেছেন, বাকিসব এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ও মার্চের আগেই বিক্রি হবে। সব মিলিয়ে এবার প্রায় সাত লাখ টাকা আয় হবে বলে ধারণা করছেন মোহাম্মদ হারুন।
বিগত বছরের টমেটো বিক্রির লাভের টাকায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন হারুন। কিনেছেন ৫০ শতাংশ জমি। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, আরেক মেয়ে ও এক ছেলের লেখাপড়ার খরচও চলছে তার এই আয়ের টাকায়।
মোহাম্মদ হারুন বলেন, “টমেটো চাষ কইরা সচ্ছল অইছি। অভাবকে লাল কার্ড দেখাইছি।” আরও বেশি জমিতে আগাম টমেটো চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে হারুনের। তার সফলতা দেখে একই গ্রামের আরও ৩০ থেকে ৩২ জন কৃষক আগাম টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে মোহাম্মদ হারুন যেভাবে টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে এবং এলাকার অন্যান্য টমেটো চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
