ইনকিলাব ও আজাদির সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২১ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চ হয়ে গেছে আজাদি। ইনকিলাব ও আজাদির সঙ্গে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নাই। বাংলাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি যে বললাম, হয়তো দেখা যাবে আমাকে ব্র্যান্ড করে ফেলবে ভারতীয় দালাল, র’য়ের দালাল। কিন্তু আমি বলবো, এই কথা বলার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম এবং জীবন দিতে গিয়েছিলাম। এ ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে বলেই আমি মন্ত্রী হয়েছি। দেশকে ভালোবাসতে শুধু বক্তৃতা নয়, পরিশীলিত হতে হবে। তবেই বাংলা ভাষা রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, আমরা নিজের ভাষাটাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ জন্ম হয়নি। এই যে আজকালকার ছেলে-মেয়েরা বলে ইনকিলাব—ইনকিলাব তো অন্যদের ভাষা, যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আমার রক্তক্ষরণ হয়, নিজেকে মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী মনে করি। সেই জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম জীবন দেওয়ার জন্য।
ছাত্রজীবনে সমাজ পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করতাম। ইনকিলাব, আজাদি—যেটা আমাদের ভাষাই নয়, সেটিই আমাদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমরা আমাদের ভাষাটাকে সুরক্ষিত করতে পারিনি। এ জন্যই পারিনি, আমরা ইতিহাসের ব্যাপারে যত্নবান ছিলাম না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সেই জাতি উন্নতি করতে পারে না। বাংলা ভাষার যে ইতিহাস, অনেক কম ভাষারই এমন ইতিহাস আছে। নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি আমাদের গড়তে হবে। একুশে ফেব্রুয়ারি আসলো—ফুল দিলাম, মায়ের ভাষায় গান গাইলাম, সভা-সেমিনার করলাম, তারপর শেষ—তাহলে তো চলবে না।
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, তারা মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকেছে। আমাদের অর্ধশিক্ষিত মা-বোনদের মধ্যে ওয়ার্ক করেছে। তা না হলে ভোটের প্যাটার্ন এমন হওয়ার কথা না। ভাষা দিবসে প্রোগ্রাম করলাম, কালচারাল অনুষ্ঠান করলাম—এটা করলেই শুধু হবে না। আমরা কিন্তু রিয়াল থ্রেটের মধ্যে আছি। তরুণ প্রজন্মকে ভাবতে হবে, না হলে আস্তে আস্তে এক্সট্রিম রাইটের দিকে চলে যাবে। এই যে গণতন্ত্র শুরু হয়েছে, আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটছি। কিন্তু পরবর্তীতে কী হবে, আমরা বলতে পারবো না।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ করুণা রানী সাহা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল।
এর আগে, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তির সোপান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ অনুষ্ঠানে দলীয় নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
