দর্শনায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম: আ. লীগের ৪ কর্মী গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৮ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন দর্শনা পৌরসভা এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের রিপন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- এর সন্ত্রাসী খাইরুল (৩৫), হাশেম আলী (৫৬), আব্দুল কুদ্দুস (৩০) ও শরিফুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা দর্শনা থানাধীন দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন-এর সহযোগিতায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিএনপি কর্মী রিপনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার মামলার এজাহারনামীয় আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খাইরুল ইসলাম, হাশেম আলী, আব্দুল কুদ্দুস ও শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং বিএনপি কর্মী রিপন নিজ বাড়ি থেকে ইফতার শেষ করে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরচন্দ্রপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খাইরুল ও হাশেমসহ ১৫-২০ জন তার ওপর হামলা করে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলার পর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাশেম ও খাইরুল কামড়ি গং এবং বিএনপি কর্মী রিপনের মধ্যে আগে বাগবিতণ্ডা হয়। এ বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রিপনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
ওই রাতেই আহত রিপনের বাবা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে খাইরুল, হাশেম, কুদ্দুস ও শফিকুলসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের নামে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আসামিদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে।
অবশেষে ৩ দিন পর আজ বুধবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন-এর সহযোগিতায় পুলিশের একটি টিম ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
