অপচিকিৎসায় ১৭ হাজার মুরগির মৃত্যু, মানববন্ধনে ক্ষতিপূরণের দাবি

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ১৭ হাজার মুরগি মৃত্যুর অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী খামারি আলমগীর হোসেন।

মানববন্ধনে রেনাটা ফার্মা লিমিটেড-এর নিজস্ব ভেটেরিনারি চিকিৎসক অদ্বৈত বর্মন ও অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড-এর নিজস্ব চিকিৎসক মেহেদী হাসানসহ জড়িতরা প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করায় তাদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে প্রান্তিক খামারি ও গ্রামবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলমগীর হোসেন, স্থানীয় বদিউজ্জামান বিদ্যুৎ, মাছুম রানা, আব্দুল খালেক প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র নিজস্ব কোম্পানির ওষুধ বিক্রির স্বার্থে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করায় তাদের এই ক্ষতি সাধন হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, রোগ অনুযায়ী সঠিক পরামর্শ প্রদান না করে অন্য কোম্পানির ওষুধের গুণগত মানের সমালোচনা করে শুধুমাত্র রেনাটা ফার্মার ওষুধ প্রয়োগে প্রলুব্ধ করেন। এ কারণে তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে খামারে ওষুধ পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা বুঝে নেন। এরপর ওষুধ প্রয়োগ করার পর খামারে মুরগির মৃত্যু শুরু হলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা যোগাযোগ রক্ষা করেননি, যা সুস্পষ্ট দায়িত্বে অবহেলা।

আমরা মনে করি কোম্পানির বিক্রি বাড়াতে চিকিৎসক সঠিক পরামর্শ না দিয়ে খামারির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, যা চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার শামিল। দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অপরদিকে, খামারিদের থানা ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে মাংস উৎপাদনের জন্য ৫৫ হাজার মুরগির বাচ্চা তোলেন খামারি আলমগীর হোসেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মুরগির খামারে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আসেন রেনাটা ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর)-এর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অদ্বৈত বর্মন। উপস্থিত থেকে কৌশলে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর)-এর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মেহেদীর মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।

পরে রেনাটা ফার্মার মার্কেটিং অফিসার ও চিকিৎসক প্রলুব্ধ ও বাধ্য করেন অন্য কোম্পানির ওষুধ না ক্রয় করে রেনাটা কোম্পানির সব ওষুধ ক্রয় করতে।

এর দুই দিন পর ১৬ তারিখ রেনাটা ফার্মা লিমিটেডের ভাউচারে চারটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ পাঠানো হলে সেগুলো ১৭ হাজার শেডে রাত ৯টার দিকে প্রয়োগ করলে দিবাগত রাত ৪টার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার মুরগি মারা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে বারবার রেনাটা ফার্মা লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেলসম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রকার সাড়া দেননি। এছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ৫ হাজার মুরগি মারা যায়।

এ ঘটনায় চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী খামারি আলমগীর। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।