চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা, নিবন্ধিত জেলেরা পাবেন সহায়তা

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ সম্পদকে রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হবে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। 

এ বছর নিষেধাজ্ঞার সময় খাদ্য সহায়তার চাল পাবেন নিবন্ধিত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলে। জেলার চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ এই ৪ উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের ৪ কিস্তিতে ৪০ কেজি পরিমাণে ১৬০ কেজি করে চাল দেবে সরকার। এতে নিবন্ধিত জেলেরা ৬ হাজার ৩শ ৪ মে. টন চাল পাবেন।

জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে ২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল- এই দুই মাস নদীতে সব প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভেরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এদিকে অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা টাস্কফোর্স। দুই মাস নিয়মিত জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।

তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন জেলেরা। ইতোমধ্যে নৌকা-জাল ওপরে উঠানোর প্রস্তুতি চলছে জেলেদের।

চাঁদপুর সদরের হানারচর ইউনিয়নের জেলে লতিফ গাজী ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আলী হাওলাদার বলেন, সরকার দুই মাস মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই আদেশ আমরা মানবো। তবে জাটকার যে চাল দেয় তা পরিপূর্ণ পাই না। ৪০ কেজির জায়গায় ৩০ থেকে ৩২ কেজি চাল পাই। আর এই দুই মাস যেন বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয় সরকার।

জেলেরা আরও বলেন, অধিকাংশ জেলে ধারদেনা ও কিস্তিতে জর্জরিত। এসময় কিস্তি বন্ধ থাকলে আমরা উপকৃত হবো। প্রশাসন যদি কিস্তি বন্ধ রাখে চাপ কমে আসবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, মার্চ এবং এপ্রিল এই দুই মাস চাঁদপুরের মতলবের ষাটনল থেকে চর ভৈরবী পর্যন্ত মোট ৭০ কি.মি. মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে এবং এই আইন অমান্যকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা-উপজেলার প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ২৪ ঘন্টা বিভিন্ন স্পিডবোটের মাধ্যমে অভিযান করা হবে। এ সময়ে জেলেরা যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য মোট চার মাসে ৪০ কেজি হারে ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ পাবে। চাঁদপুরে নিবন্ধিত মোট ৩৯ হাজার ৪০০ জন জেলে এই সুবিধা পাবে।

তিনি আরও বলেন, অভয়াশ্রমে অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ মাস জাটকা নিধন বন্ধে আমরা নৌ পুলিশ সচেতন আছি। চাঁদপুর নৌ সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌ পুলিশের কেউ যদি অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারীদের সাথে অবৈধভাবে যোগাযোগ রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।