নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যার পর ভারতে পালানোর ব্যর্থচেষ্টা নূরার

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা স্বীকার করেছে, সে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনাও করেছিল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নূরাকে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে অন্য আসামি হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, ঘটনাটির পরপরই পুলিশ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে। ইতোমধ্যে এজাহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত চারজন এবং বিচারকার্যে সহায়তাকারী তিনজনসহ মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গতকাল গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রবিবার (১ মার্চ) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আজ দুপুরে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি নূরা ও হযরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সেখানে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, বুধবার রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া মহিষাশুরা ইউপির সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দলীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।