নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা মামলার সাত আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি নূরাসহ গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে ৮ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট নরসিংদী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, মামলার মূল আসামী নূরাকে গাজীপুর মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে অন্য আসামি হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে গত দুইদিনে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটির পরপরই পুলিশ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ, স্থানীয় হোসেন বাজার এলাকার গাফফার। ইতোমধ্যেই এজাহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত চারজন এবং বিচারকার্যে সহায়তাকারী ৩ জনসহ ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে কিশোরী আমেনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে ৬ জনের একটি চক্র আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া মহিষাশুরা ইউপির সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দলীয় চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।