মেয়র ডা. শাহাদাত

‘চট্টগ্রামকে ক্লিন-গ্রিন সিটি হিসেবে গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে’

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তা ও বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীর সৌন্দর্য, পরিবেশ ও পথচারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

সোমবার (২ মার্চ) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় মেয়র এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।

সভায় মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সড়কসমূহের পাশে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। নালার ওপর স্ল্যাব রয়েছে কিনা এবং সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা সঠিক অবস্থায় আছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশ দেন তিনি। কোথাও স্ল্যাব বা ম্যানহোল অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত প্রকৌশল বিভাগকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেন।

মেয়র নগর পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন সড়কের গাছের পরিচর্যায় নিজস্ব মালি ও কর্মীদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি বলেন, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ক্লিন ও গ্রিন সিটির ধারণা বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।

সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, নগরীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও আইল্যান্ডসমূহ নান্দনিকভাবে সাজালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। সড়কের পাশে স্থাপিত পিলারগুলো রঙিন করা এবং মিডিয়ান আইল্যান্ডে পরিকল্পিত বাগান তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে এ সমস্যা মোকাবেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তাব দেন।

মেয়র এ বিষয়ে কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। তিনি বন্দর থেকে জিইসি এলাকা পর্যন্ত সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন এবং প্রকৌশল বিভাগকে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নগর সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। মেয়র জানান, সড়কের ধুলাবালি পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এ সময় মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া জরিপ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি চসিকের তত্ত্বাবধানে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বেগবান করতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

মেয়র আরও জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে হিজড়া খালসহ অন্যান্য খালের খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মেয়র প্রধান প্রকৌশলীকে নগরীজুড়ে খেলার মাঠসহ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দেন। বর্ষাকালের আগেই সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বেগবান করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় মেয়র উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে হলে সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।