রংপুরে আটক হওয়া সরকারি সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সরকারি সার নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না। আটক হওয়া সারের বিষয়ে কিছুই জানেন না গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলাররা। সারের রহস্য উদ্ঘাটনে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ করছে পুলিশ। সেই সঙ্গে ট্রাকভর্তি সারসহ আটক হওয়া চালককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সার কালোবাজারির পেছনে দায়িত্বশীল কেউ জড়িত থাকলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি রাত ৯টায় পরশুরাম থানার সামনে পুলিশ সন্দেহভাজন একটি ট্রাক আটক করে। চালক মানিক মিয়া (৪৮)-এর কাছে সার সরবরাহের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ট্রাকটি তল্লাশি করে পুলিশ ১৩৪ বস্তা টিএসপি সার, ৫০ বস্তা ডিএপি সার ও ৩০ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ২১৪ বস্তা সার উদ্ধার করে, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ সময় ট্রাক চালক নগরীর তাজহাট কেডিসি রোড সুলতান নগরের খবির উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

এদিকে সারগুদামে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, নগরীর বিএডিসি কালীবাড়ি সার গুদাম থেকে ১৯ জানুয়ারি গঙ্গাচড়ার ডিলার রাকিবুল ইসলামের কাছে ৭৩৮ বস্তা সার পাঠানো হয়। ওই সার রাকিবুল ইসলাম বুঝে পেয়েছেন বলে জানান গুদামের ইনচার্জ ও বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, সার বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের সার বরাদ্দ করা হয়। গত ১৯ জানুয়ারি পুলিশ আমাকে ফোন দিয়ে আটক সারের বিষয় জানতে চায়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আটক সারটি ডিলার রাকিবুল ইসলামের হতে পারে। তখন পুলিশকে তার নাম বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি রাকিবুলকে ফোন করে জানতে পারি তিনি তার বরাদ্দকৃত সার পেয়েছেন, যা পরে আমি পুলিশকে জানিয়েছি। আমার গুদাম থেকে কালোবাজারে সার যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন কোনো ডিলার যদি তার বরাদ্দের সার বাজারে বিক্রি করে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই।

অপরদিকে লালবাগ সার গুদামের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, ১৯ জানুয়ারি বিকেলে পীরগাছার ডিলার মমদেল হোসেনের কাছে বরাদ্দকৃত ৮৮৬ বস্তা সার পাঠানো হয়েছে। সেই সার পুলিশের হাতে আটক হওয়া মানিক মিয়া পরিবহন করেছেন। তবে মমদেল জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত সার তিনি পুরোটা বুঝে পেয়েছেন।

গুদাম ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ১৯ জানুয়ারি ডিলার মমদেল আমাকে ফোন করে ট্রাক চালক মানিক মিয়াকে সার বুঝে দিতে বললে আমি কাগজপত্রসহ তাকে সার বুঝিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে ডিলার মমদেল সার বুঝে পেয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

মানিক মিয়া যে সারসহ আটক হয়েছে সেটি আমি জানি না। ওদিকে উভয় ডিলারই তাদের বরাদ্দকৃত সার বুঝে পেলে আটক হওয়া সার কার—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ বলছে, সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল— এমন তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাকটি আটক করা হয়। আটক ট্রাক চালক মানিক মিয়া পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না।

পরশুরাম থানার এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি সার কোন গুদাম থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছিল, কালোবাজারির সঙ্গে কারা জড়িত—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা চাই সকল অপরাধী যেন শাস্তির আওতায় আসে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সার আটকের ঘটনাটি শুনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।