নবজাতকের মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ
চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। নবজাতক কন্যা শিশুটির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
মঙ্গলবার রাত ১১টায় শহরের তালতলা এলাকার চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রোগীর স্বজনদের শান্ত করেন।
নবজাতক শিশুটি শহরের পুরাণবাজার এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবাসী ইসমাইল পালোয়ান ও নার্গিস বেগমের তৃতীয় সন্তান।
শিশুটির খালা তন্বি ও বোন ফিরোজা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় নার্গিস বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় সিজারের প্রস্তুতি নেন ডা. জান্নাতুল নাঈমা। পরে একটি কন্যা নবজাতকের জন্ম হয়। হাসপাতালের নার্সরা নবজাতককে শিশু চিকিৎসককে দেখাতে বলেন। সে অনুযায়ী হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক মেহেদীকে দেখানো হয়। চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে বলেন, বাচ্চা সুস্থ আছে।
পরদিন ১ মার্চ (রোববার) সকাল ১১টায় শিশুটিকে হঠাৎ অন্য চিকিৎসক দেখানোর জন্য বললে দ্রুত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ মার্চ সোমবার ইফতারের পর নবজাতক শিশুটি মারা যায়।
তারা আরও বলেন, বাচ্চা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় ময়লা খেয়েছে, তারা ময়লা ওয়াশ করেনি, অক্সিজেন দেয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলায় শিশুটি মারা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, সিজারে বাচ্চাটি হওয়ার পর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক মেহেদীকে দেখানো হয়। পরে অন্য একজন শিশু চিকিৎসককে দেখানোর জন্য রোগীর স্বজনদের বলা হয়। বাচ্চাটির স্বজনরা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডা. আজিজকে দেখিয়েছেন। আর বাচ্চাটি সদর হাসপাতালে মারা গেছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উত্তেজিত স্বজনদের শান্ত করা হয়।
তবে এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানান।
