চুয়াডাঙ্গায় আগাম আমের মুকুলে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

ফুটেছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে সুবাসিত ঘ্রাণ। কবির ভাষায়, ‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আমের মুকুল। বনে বনে ফুল ফুটেছে, দোলে নবীন পাতা।’ এ যেন বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। চুয়াডাঙ্গা জেলার আমগাছগুলোতে এর মধ্যেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি।
আমের মুকুলে তাই এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে তাদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা। শীতে স্নিগ্ধতার মধ্যেই শোভা ছড়াচ্ছে সোনালি মুকুল। বছর ঘুরে আবারও তাই ব্যাকুল হয়ে উঠেছে আমপ্রেমীদের মন।
এবার সময়ের আগেই সোনালি মুকুলে ভরে গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আমবাগান। তাই দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে চাষির স্বপ্ন। গাছে গাছে ঝুলছে আমের মুকুল। মাঘের আমন্ত্রণে আসা আগাম মুকুল ফাল্গুনকে স্বাগত জানিয়ে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আকাশে-বাতাসে মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা করে তুলছে। থোকায় থোকায় হলুদ রঙের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল ও গুটি আম দেখে ইতোমধ্যে বেপারিরা বাগানের দরদাম হাঁকছেন। আর বাগানের মালিকেরা আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমবাগানের মালিক জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের আকবার আলী জানান, ৫ বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের আম আছে। বাগানের চারপাশে কিছু হিমসাগর গাছ রয়েছে। এবার গাছে খুব ভালো মুকুল এসেছে বলে মনে হচ্ছে। মুকুল টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত গাছের পরিচর্যা করা হচ্ছে। জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।
তুহিন আলী নামের একজন বলেন, আমার বাড়ির আঙিনায় ও ফসলের জমির আইলে কিছু হিমসাগর জাতের আমগাছ রয়েছে। পারিবারিক চাহিদা পূরণ করে আম বাজারে বিক্রি করে থাকি। প্রতিবছর গাছে ভালো মুকুল আসে। এবারও অনেক ভালো মুকুল এসেছে। তবে গুটি অবস্থায় অনেক আম ঝরে পড়ে। যার কারণে কৃষি অফিসারের পরামর্শে এখন থেকেই আমগাছের যত্ন নেওয়া শুরু করে দিয়েছি।
লিটন হোসেন নামের একজন বলেন, এবার আগেভাগেই আমগাছে অনেক মুকুল দেখা যাচ্ছে। মুকুল আসার সময়টা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ঘন কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি ও রোগবালাইয়ে মুকুল ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। আমের গুটি দাঁড়ানো পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে অনেক লাভবান হওয়া যাবে। মুকুল আসার পর থেকেই অনেক চাষি পরিচর্যায় মনোযোগী হয়েছেন। কেউ নিজ অভিজ্ঞতায়, কেউ কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন।
উথলী গ্রামের বাগান মালিক ঈদ্রিস আলী জানান, নিয়ম করে গাছ পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। কোথাও পোকার লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এই সময়টা পার হলে ফল ধরতে আর তেমন সমস্যা হয় না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মুকুল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করতে কাজ করছে তারা। ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমের মুকুল আসার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠান্ডা প্রয়োজন হয়, তবে অতিরিক্ত কুয়াশা ক্ষতিকর। এবার সেই ভারসাম্য মোটামুটি বজায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ও ভুলভাবে কীটনাশক ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। তাই কৃষকদের সচেতন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
