মানিকগঞ্জে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর সোয়া কোটি টাকার একটি সড়ক উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের রানাদিয়া রসুমত–পাঞ্জনখাড়া সড়কটি বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) দ্বারা উন্নয়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স স্থপতি কনস্ট্রাকশন।
প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ১০ লাখ টাকার বেশি।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি কাজ শুরুর কথা এবং ২০২৬ সালের ৬ মার্চের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এজিংয়ের দুই পাশে দুই ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি।
এছাড়া প্রায় ১০ লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ বাস্তবে হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে সড়কের বিভিন্ন অংশে এজিং ঘেঁষে ফাঁকা দেখা গেছে। কোথাও প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও সমতল রক্ষা করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ঢালও যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সড়কের উপরের পিচ ও পাথর উঠে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুরো কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেছেন।
রানাদিয়া গ্রামের প্রবাসী আজমীর হোসেন বলেন, “ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র এক মাস আগে। এখনই পা দিয়ে ঘষা দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এমন নিম্নমানের কাজ আগে দেখিনি।”
ভাটোরা গ্রামের ভ্যানচালক খোরশেদ আলম বলেন, “২০–২৫ দিন আগে ঢালাই হয়েছে। এখনই খোঁচা দিলেই বিটুমিন উঠে আসে। কাজ ভালো হয়নি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহিণী বলেন, “কয়েকদিন হলো রাস্তা হয়েছে। নখ দিয়ে খোঁচা দিলেই পিচ উঠে আসে। কতদিন টিকবে জানি না।”
আইরমারা গ্রামের দুলাল মিয়া বলেন, “রাস্তা পাকা হওয়া ভালো কথা। কিন্তু মান ঠিক নেই। নিম্নমানের খোয়া আর দুই নম্বর পিচ ব্যবহার করায় এখনই উঠে যাচ্ছে। অথচ এটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক—রানাদিয়া, গড়পাড়া, পূর্বখাল পাধোয়া, গোসাই নগর, বাংলাদেশ হাটসহ পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার যাতায়াত এই পথেই।”
মেসার্স স্থপতি কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আসলাম খান বাবু বলেন, “শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করেছি। চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেছি। কোনো অনিয়ম থাকলে ল্যাব টেস্টেই তা প্রমাণ হবে।”
কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আজম জানান, “৮৯৮ মিটার সড়কের কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী রইসুল আরেফিন বলেন, বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছি। নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চূড়ান্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হলে বিল পাওয়ার সুযোগ নেই। আবেদন করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঢালাই তুলে নতুন করে কাজ করতে হবে।”
