বাগেরহাটে ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণ উধাও, তদন্তে পুলিশ
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের একটি লকার থেকে গ্রাহকের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাচান চৌধুরী, পিবিআই পুলিশ সুপার মো. আল মামুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় গিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন।
বিকেল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সুমন কুমার দাস নামের এক গ্রাহক ব্যাংকের লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার একটি লকারে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রাখা হয়েছিল। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত বুধবার তিনি ব্যাংকে গিয়ে লকার থেকে স্বর্ণ নিতে গেলে দেখতে পান সেখানে রাখা স্বর্ণালঙ্কার নেই।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালে তদন্ত শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সুমন কুমার দাস বলেন, আত্মীয়-স্বজনসহ পরিবারের সবার স্বর্ণালঙ্কার সেখানে রাখা ছিল। হঠাৎ করে সেগুলো না পেয়ে তারা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। কীভাবে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেল, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
পূবালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন জানান, তাদের ব্যাংকে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।
তিনি বলেন, লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়ে গ্রাহক কোনো ঘোষণা দেননি এবং লকারের যে অংশটি গ্রাহকের জন্য নির্ধারিত থাকে তার চাবি গ্রাহকের কাছেই থাকে। সেই অংশের চাবি ব্যাংকের কাছে থাকে না। তাই পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় কারা দায়ী তা স্পষ্ট হবে।
এদিকে একই ভবনে থাকা নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামন ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় বুধবার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
