ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কিশোরী আমেনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, সৎ পিতাসহ গ্রেপ্তার ৯

কিশোরী আমেনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, সৎ পিতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোরী আমেনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভিকটিমের সৎ বাবা মো. আশরাফ আলীকে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষোভের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সৎ মেয়ে আমেনাকে হত্যা করেছেন তিনি।

আজ শনিবার দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ, ডিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আশরাফ আলী তার সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে আমেনাকে পিছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিমের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামির মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এজাহারে নাম না থাকলেও সন্দেহ হওয়ায় নিহতের সৎ বাবাকে (০৬/০৩/২০২৬) শুক্রবার বিকেলে মাধবদীতে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

এ নিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যার আগে আমেনাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, ফরেনসিক রিপোর্ট এলে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে পুলিশ সুপার জানান।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ভিকটিম আমেনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা শারীরিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

অপরদিকে ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার মিলে দলবদ্ধভাবে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তদেরও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০), ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০) এবং ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০)।

এ ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩)৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬১, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৫, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত এ ঘটনায় ৪ ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সৎ পিতাসহ গ্রেপ্তার ৯,রহস্য উদ্ঘাটন,কিশোরী আমেনা হত্যা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত