বীরগঞ্জে পেঁয়াজের বীজে সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক জব্বার
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সাদা ফুলে ভরা কোনো শোভাময় বাগান। সারি সারি গাছে ফুটে থাকা অসংখ্য সাদা ফুল বাতাসে দুলছে মৃদু ছন্দে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার গল্প। এই ফুল থেকেই তৈরি হবে পেঁয়াজের বীজ, আর সেই বীজ চাষ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার।
প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ বীজ চাষ করেই এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। নতুন এই উদ্যোগে সাফল্যের আশায় এখন আশপাশের অনেক কৃষকই আগ্রহ নিয়ে তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে পেঁয়াজ বীজ চাষে ঝুঁকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কৃষক আব্দুল জব্বার এ মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। তিনি লালতীর হাইব্রিড ও লালতীর সুখসাগর এই দুইটি উন্নত জাতের পেঁয়াজের বীজ বপন করেছেন। যত্নসহকারে পরিচর্যা করায় এখন তার ক্ষেতজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। এই ফুল থেকেই তৈরি হবে উন্নতমানের পেঁয়াজ বীজ।
আব্দুল জব্বার আশাবাদী, সঠিক পরিচর্যা বজায় রাখতে পারলে এ মৌসুমে তার বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে সকল খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ১-২ লাখ টাকা লাভ হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
কৃষকের এই সফল উদ্যোগে পরিবারের সদস্যরাও ভীষণ উৎসাহী। কৃষক আব্দুল জব্বারের ছেলে আল-আমিন জানান, তার বাবার দীর্ঘদিনের কৃষি অভিজ্ঞতা এবং নতুন কিছু করার সাহসই এই উদ্যোগের মূল শক্তি। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন, তবে এখন ক্ষেতের অবস্থা দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন।
তিনি মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে পেঁয়াজ বীজ চাষ ভবিষ্যতে এলাকার কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারে। তরুণ প্রজন্মও কৃষিতে যুক্ত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইষলাম জানান, দেশে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অনেক সময় বাইরে থেকে বীজ আমদানি করতে হয়, যা কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়ভাবে যদি কৃষকরা পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসেন, তাহলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশও বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাবে।
কৃষক আব্দুল জব্বারের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই দৌলতপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তার ক্ষেত এখন অনেক কৃষকের জন্য শেখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। যদি এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকে এবং কৃষি বিভাগের সহায়তা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বীরগঞ্জ এলাকায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
