জীবননগরে কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ২২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী গ্রামে কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাটি মাগরিবের নামাজের পর ঘটে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী জানান, মাধবখালী গ্রামের মন্ডলপাড়া ও খানপাড়ার মাঝে গ্রামের মসজিদ অবস্থিত। মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নূর ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম একরকম জোর করেই দায়িত্ব পালন করতেন। দীর্ঘদিন তার ওপর মানুষ অসন্তুষ্ট ছিল, কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলত না। বললেই মারামারি লাগত। পটপরিবর্তনের পর নতুন করে মসজিদ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মনিরুল গং ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

মসজিদের সঙ্গে মন্ডলপাড়ার কবরস্থান অবস্থিত। গতকাল সোমবার কবরস্থানের গেট নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করা হয়। এ কারণে মনিরুল গ্রুপ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বিকেলে গালাগালি করতে থাকে। সন্ধ্যার পর শুরু হয় হাতাহাতি ও মারামারি। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ১০ জন আহত হন।

লিখন (১৮) পিতা আশরাফুল ইসলাম ও মৃত মওলা বক্সের ছেলে খান জাহান খান (৪৫) গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন— রোজিনা (৪২) স্বামী আব্দুল হান্নান, নাজমা (৫০) পিতা নুর ইসলাম, তৃষ্ণা (৩২) স্বামী স্বপন, জেরিন (১৭) মাতা নাজমা, উকিল (৫০) পিতা আব্দুল কাদের, সামাদ (৫২) পিতা ইদ্রীস আলী, দূর্জয় (২৫) পিতা ফকির বিশ্বাস এবং মান্নান (৩৮) পিতা আজিম উদ্দিন।

মন্ডলপাড়ার নাজমা খাতুন জানান, খানপাড়া ও মন্ডলপাড়ার মাঝখানে মসজিদ। মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে কবরস্থানের গেট করা হচ্ছে। গেটে নাম দেওয়া হবে খানপাড়া। গেটে এক পাড়ার নাম দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মারামারি হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, খান জাহান খান (৪৫) নামের রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সোলায়মান শেখ, অফিসার ইনচার্জ, জীবননগর থানা জানান, গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। কোনো পক্ষই থানায় এখনো কোনো অভিযোগ করেনি।