ঈশ্বরদীতে বিশ দিনে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আলমাস আলী, ঈশ্বরদী (পাবনা)

কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের কয়েকটি পরিবারের ৫৫টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ছাগলগুলো মারা যায়। এছাড়া আরো ছাগল অসুস্থ বলে জানিয়েছেন উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ার বাসিন্দারা। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ছাগল পালনকারী কয়েকটি পরিবার। 

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. আকলিমা খাতুন ছাগলের মৃত্যু ও অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমরা গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ার দিনমজুর শফিকুল আলম বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে আমার চারটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। অবশিষ্ট আরো দুটি ছাগলও এখন অসুস্থ।’

ওখানকার ছাগল পালনকারী কয়েকটি পরিবার জানায়, আমরা এখন পথের ফকির। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা (ঋণ) করে কয়েকটি ছাগল কিনে তা লালন–পালন করে বাজারে বিক্রি করে যে লাভ হতো, তা দিয়ে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল।

তারা বলেন, ‘অভাবের সংসার। তারপরও বাজার থেকে বাকিতে ছাগলের খাবার (ভুসি), ওষুধ কিনেছি। আশা ছিল, ছাগল বিক্রি করে সব ধারদেনা পরিশোধ করব। আসন্ন ঈদে ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের জন্য পোশাক কিনব। কিন্তু ছাগলগুলো মারা যাওয়ায় কীভাবে সংসারের খাবার জোগাবো আর কীভাবে অপরের ধারদেনা শোধ করব, ভেবে পাচ্ছি না।’

মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পরিবার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় অত্যাধিক জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ছাগল অসুস্থ ও মারা যাওয়া রোগটি রমজান মাসের প্রথম দিক থেকে শুরু হয়। এই রোগে আক্রান্ত ছাগলগুলোর অত্যাধিক জ্বর (১০৫ থেকে ১০৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস), শ্বাসকষ্ট, কাশি শুরু হয় এবং খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়। এটা ছাগলের কন্টাগিয়াস ক্যাপরিন প্লিউরোপ্নিউমোনিয়া (সিসিপিপি) রোগের লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় এটা সিসিপিপি রোগের আক্রান্ত হতে পারে। ল্যাব টেস্টের জন্য রোগাক্রান্ত ছাগলের স্যাম্পল কালেকশন করে সিরাজগঞ্জ ফিল ডিজিজ স্যাম্পল ল্যাবরেটরি (এফডিআইএল) পাঠানো হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট এলে ছাগলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই এলাকার ছাগল পালনকারীরা।

উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়ায় গ্রামে মঙ্গলবার পর্যন্ত শফিকুল আলমের চারটি, হোসেন আলীর তিনটি, সাইদুল ঘোষের তিনটি, জহুরুলের চারটিসহ আরো বেশ কয়েকটি বাড়িতে বাড়িতে আক্রান্ত হয়ে ৫৫টি ছাগল মারা গেছে এবং আরো বেশ কিছু ছাগল অসুস্থ রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, গত রোববার (৮ মার্চ) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম খান-সহ একটি মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ায় পাঠানো হয়। এ সময় রোগাক্রান্ত ও মৃত ছাগলের খামার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে ও রোগাক্রান্ত ছাগলের স্যাম্পল কালেকশন করে এফডিআইএল-এ প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়। এই ক্যাম্পে পাবনা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ডা. মো. সেলিম হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন-সহ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম রোগাক্রান্ত ছাগলের চিকিৎসা ও ছাগল খামারিদের অন্যান্য পরামর্শ দেন।