পাংশা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৮:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেককে সাড়ে সাত থেকে সাড়ে আট কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে পাংশা পৌরসভা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারান্দায় চাল ঢেলে বালতি দিয়ে পরিমাপ করে উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে কোনো ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল না।

তাইজেল নামের এক উপকারভোগী জানান, চাল নেওয়ার পর তার মনে হয় ওজনে কম হতে পারে। পরে পৌরসভার সামনে একটি দোকানে মেপে দেখেন তার প্রাপ্ত চালের পরিমাণ ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম। পরে তিনি বাকি চাল নিয়ে আসেন।

আয়সা নামের আরেক উপকারভোগী জানান, তিনি চাল নিয়ে পাশের দোকানে মেপে দেখেন তাকে ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম চাল দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার মৃগিডাঙ্গা এলাকার আতাই সরদার বলেন, “আমার ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেপে দেখি ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম পেয়েছি। প্রায় ৭০০ গ্রাম কম দেওয়া হয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন আরও অনেক নারী-পুরুষ উপকারভোগী।

জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার ৩০ কেজি ওজনের ১ হাজার ৫৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গুদামে রাখা হয়েছে। শনিবার থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে এবং এখনও তা চলমান রয়েছে।

এদিকে চাল কম দেওয়ার অভিযোগের পর পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত স্টিলের বালতি পরিবর্তন করে প্লাস্টিকের বালতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন এবং চাল যেন নির্ধারিত পরিমাণে দেওয়া হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

পাংশা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিসুর রহমান বলেন, গুদাম থেকে পাওয়া ৩০ কেজির চালের বস্তায় সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত কম থাকতে পারে। সে কারণে উপকারভোগীদের সামান্য কম দেওয়া হয়। তবে যদি দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত কম দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বিতরণকারীদের ভুল হতে পারে বলে তিনি জানান।

চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার ও পাংশা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, “শনিবার চাল বিতরণের সময় কিছু অভিযোগ পাওয়ায় আজ সারাদিন উপস্থিত থেকে তদারকি করেছি। তবে যেভাবে দেড় থেকে দুই কেজি কম দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা কম দেওয়া হচ্ছে না।”

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ১০ কেজি চালের মধ্যে ১০০–২০০ গ্রাম কম হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে দেড় বা দুই কেজি কম দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।