মৌসুমের প্রথম ঝড়ে চুয়াডাঙ্গায় ফসলের মাঠের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

মৌসুমের প্রথম ঝড়ে উঠতি ফসলের হয়েছে ক্ষতি। কলা বাগান, ভুট্টা ক্ষেত ও সূর্যমুখী ফসলের ক্ষেত ঝড়ের আঘাতে হয়েছে লণ্ডভণ্ড। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

ফাগুনের মাঝামাঝি থেকে প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করতে থাকে। প্রতিদিনই মনে হতো এই বুঝি বৃষ্টি এলো। আকাশ থাকত থমথমে, রোদের প্রখরতা তেমন ছিল না। ফাগুনের শেষটা ভালোই কেটেছে। চৈত্রের প্রথম দিনেই ঝড়ের আঘাত হানে জীবননগর উপজেলায়। মৌসুমের প্রথম ঝড়ের আঘাতে উঠতি ফসলের হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি।

ঝড়ের আঘাতে কলা বাগান, ভুট্টা ক্ষেত, সূর্যমুখী ফসল ও সজিনা ডাঁটা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার কেডিকে ইউনিয়ন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ও উথলী ইউনিয়ন এলাকায় ব্যাপক হারে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়ে থাকে। এ কলা এলাকার চাহিদা পূরণ করেও বাইরের জেলাগুলোতে পাঠানো হয়। বিভিন্ন এলাকার পাইকারি কলা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কলা কিনে নিয়ে যায়। চৈত্রের প্রথম দিনের ঝড়ে এলাকার কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উথলী গ্রামের শিক্ষিত সচেতন চাষী রতন মিয়া দেড় বিঘা জমিতে চাপা কলা চাষ করেছেন। কলা বিক্রিযোগ্য হয়েছে। রবিবারেই কলা ক্ষেতের দাম বলেছে পাইকাররা ৮৫ হাজার টাকা। রতন মিয়া এক লাখ ১০ হাজার হলে বিক্রি করবেন—এমন ইচ্ছা ছিল। রবিবার দিবাগত রাতে ঝড়ের আঘাতে কলার ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এখন হয়তো ৩০ হাজার টাকায় কলার ক্ষেত বিক্রি হতে পারে। এভাবে কলা চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বছরের প্রথম ঝড়ে।

ভুট্টা ক্ষেতের গাছ ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেতে গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ভুট্টারও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সজিনা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, গাছের ডাল ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন-এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমরা ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জেলায় পাঠিয়েছি। তবে ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।