নিজ সন্তান অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, বাবাসহ আটক ২

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় দাসপাড়া এলাকা থেকে নিজের শিশু সন্তানকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপহৃত শিশু সিয়াম (৮)কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আজিজুল ইসলাম (২৮) ও তার এক সহযোগী আক্তার হোসেন (২৬)কে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত অপহরণকারী আজিজুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া মড়াকাটি এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে এবং আক্তার হোসেন জীবননগর উপজেলার শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত বাবা আজিজুল তার এক সহযোগী আক্তারসহ শিশু সিয়ামকে অপহরণ করে। এরপর একটি নির্জন বাগানে নিয়ে সিয়ামকে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর নির্দেশে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানাধীন পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজিজুল ও তার সহযোগী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অপহৃত শিশু সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে ভুক্তভোগী শিশুর জীবন রক্ষার্থে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কাছে পাঠানো ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা, একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের কাছে পাঠান অভিযুক্তরা।

শিশুটির মায়ের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত বাবা আজিজুল। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় মামলা করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।