কুমিল্লার ট্রেন দুর্ঘটনা: ৩ তদন্ত কমিটি গঠন
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি জেলা প্রশাসন গঠন করেছে। গঠিত কমিটিগুলোকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে বিভাগীয় ও জোনাল—দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিতে ৬ জন করে মোট ১২ জন সদস্য রাখা হয়েছে। বিভাগীয় কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ (চট্টগ্রাম) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম) আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (চট্টগ্রাম) ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (চট্টগ্রাম) মো. শহীদ উল্লাহ।
অন্যদিকে জোনাল কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে। কমিটির অন্যরা হলেন— চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগনাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিকেল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
