‘২০০ বছরের পুরনো মসলিন পুনরুদ্ধার করছে সরকার’

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, বাংলার ঐতিহ্যের সাক্ষী ২০০ বছরের পুরনো মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার। আমরা জামদানি ভিলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসেছি। জামদানি শিল্পের শেকড় সন্ধানে আমরা সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত গিয়েছি এবং সেখান থেকে এই শিল্পের ঐতিহাসিক তথ্য ও ঐতিহ্য সংগ্রহ করে এনেছি।

পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দক্ষ কারিগরদের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে গবেষণা কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়ায় বাস্তবায়নাধীন জামদানি ভিলেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ধাপে ধাপে বন্ধ পাটকলগুলো চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে পাট শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাট শিল্পকে ঘিরে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকারের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় তিনি ‘আব-ই-রওয়ান’ প্রদর্শনী কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং মসলিন কাপড় তৈরির বিভিন্ন ধাপ প্রত্যক্ষ করেন। চরকার মাধ্যমে কাপাস থেকে সুতা তৈরি এবং সেই সুতা দিয়ে কাপড় বুননের প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি গ্যালারিতে প্রদর্শিত মসলিন সুতা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কাপড়ও ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, তাঁত বোর্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান ও দেবাশীষ নাগ, যুগ্মসচিব মো. জাহিদ হাসান, প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দিন এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।