বীরগঞ্জে মধু চাষে নতুন সম্ভাবনা, মৌয়ালদের ব্যস্ত সময়

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

ফুলের মিষ্টি গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিরা গাছে গাছে, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়, সংগ্রহ করে অমৃতের মতো মধুরস। তাদের ক্ষুদ্র ডানার শব্দে ভরে ওঠে চারপাশ, আর সেই মধুরস ধীরে ধীরে জমা হয় মৌচাকে। এমন চিত্র দেখা গেছে বুধবার সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কাজল গ্রামে।

মৌমাছি পালন ও মধু সংগ্রহে এখন চলছে ব্যস্ত সময়। মৌসুমের এই সময়ে মৌয়ালরা দিন-রাত পরিশ্রম করে সংগ্রহ করছেন খাঁটি মধু।

সিরাজগঞ্জ থেকে মধু সংগ্রহে আসা একটি মৌচাষ খামারে চারজন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌয়ালদের মধ্যে মো. রাকিব ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে দুই দফায় মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবারই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে মোট ৬০০ কেজি মধু আহরণ করা সম্ভব হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফুলের ভালো উৎপাদনের কারণে এবার মধুর উৎপাদনও বেশ সন্তোষজনক। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে মৌচাক পরিদর্শন, মধু সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের কাজ করতে হয়। এতে শ্রমিকদের বেশ পরিশ্রম করতে হলেও লাভজনক হওয়ায় তারা উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে মো. নুর হক ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জের কাজল গ্রামে মধু চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কম পুঁজিতে ভালো লাভ হওয়ায় অনেকেই এ খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এক সাক্ষাৎকারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৪৯৬টি লিচু বাগানে ৪২০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, সাতোর, মরিচা এবং বীরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় এক হাজার মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রতিকেজি মধু ৬০০ টাকা দরে ক্রেতারা ক্রয় করছেন। লিচু বাগানে মৌচাষ করলে পরাগায়নে সহায়তা করে, ফলে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।