রাসুল (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তি, বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কান্দাপাড়া বাজারে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মো. পারভেজ হোসেন ইমন (২৭) নামে এক কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মকবুল হোসেন বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত পারভেজ হোসেন ইমন কান্দাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান লিটনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কান্দাপাড়া বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ওই সময় তিনি রাসুল (সা.)-এর বিবাহিত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা কান্দাপাড়া জামে মসজিদ এলাকা থেকে ইমনকে আটক করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সাটুরিয়া-গোলড়া আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্য, জেলা পুলিশ ও সাটুরিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত জনতা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় থাকা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে কনস্টেবল মো. আরিফুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মানিকগঞ্জ সদর সেনাবাহিনী ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট মোস্তাহিদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী এবং সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন অতিরিক্ত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং অভিযুক্ত ইমনকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার (ওসি-তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত যুবককে আটক করে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত কনস্টেবল আরিফুল ইসলামকে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।