চুয়াডাঙ্গায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৬
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ২১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক গৃহবধূকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী কবিতা খাতুন (৩০), মিজান (৩৪), আব্দুর সামাদ (২৫), আদম আলী (৩৪), শাহাজান আলী (৪৫) ও আব্দুস সালাম (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
এর আগে, গত (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত মিজান ও আব্দুস সামাদ উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে, আদম আলী একই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে, শাহাজান মৃত তাহাজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে, আব্দুস সালাম একই উপজেলার শিয়ালমারি গ্রামের দুলালের ছেলে এবং কবিতা খাতুন সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর (ভিকটিম) সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা খাতুন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে গৃহবধূকে ফুঁসলিয়ে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম।
সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে আসে। এরপর কবিতা ও গৃহবধূ ওই ইজিবাইকে উঠে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।
পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে পাশের জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে আব্দুস সালাম, শাহাজান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর ওই রাতেই কবিতা ও গৃহবধূকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দিয়ে যায় আসামিরা।
বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে ২৭ মার্চ আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
মামলার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিক জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে শনিবার (২৮ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
