পাবনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, হাসপাতালে ভর্তি ২৭
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:১২ | অনলাইন সংস্করণ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে বেড়েছে। প্রতিদিনই হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন।
বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হামের রোগীদের মধ্যে ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫ জন। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুইজনের মধ্যে একজনের বয়স ২২ বছর, অন্যজনের বয়স ৩২ বছর।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে রোগীতে ঠাসা। মেঝেতেও রোগী, হাঁটারও উপায় নেই। শিশু ওয়ার্ডে একেকটি শয্যায় দুইজন, তিনজন করে ভর্তি রয়েছে। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি কাঁচঘেরা কক্ষে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন। সেখানেও একেকটি শয্যায় দুইজন করে রয়েছে। মেঝেতেও চারটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন হামে আক্রান্ত তার ৪ মাস বয়সী মেয়েকে ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ হয়নি। তিনি জানান, তার মেয়ের প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর আসে। তারপর শরীরে ও মুখে লাল গুটি বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে, বিছানায় ঘুমাতে পারে না। এমন অবস্থায় তারা হাসপাতালে এলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।
হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম তার ৯ মাস বয়সী নাতি মাশরাফকে কোলে নিয়ে পায়চারী করছিলেন। তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সুফিয়া বেগম জানান, গত ২৮ মার্চ তার নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখানে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। এই কক্ষে ডাক্তার আসলে নার্সদের ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। রুমটিও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না।
মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুন হামে আক্রান্ত তার ৮ মাস বয়সী ছেলে সাফায়াতকে ঈদের পরদিন ভর্তি করেছেন। এখনও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসা চলছে। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ওষুধ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আর নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই রুমে আসতে চাচ্ছেন না।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, হামের রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি তারা নজরদারিতে রেখেছেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, হাম ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুসহ যেকোনো বয়সী মানুষের হাম হতে পারে। আপাতত ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় সংকট নেই। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। আমাদের ওই ৩৮ শয্যার হিসেবেই ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু সংকট থেকে যায়।”
তবে হামের জন্য নতুন করে একটি ওয়ার্ড চালুর কথা জানান তিনি। টিকা নেওয়ার পরও কেন হামের এমন প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু-চারজন করে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। এ কারণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। যেহেতু ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার পরও নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে, বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
