দিনাজপুরে মাছের পোনা চাষে স্বাবলম্বী সাদেকা বানু
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৭ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরে মাছের পোনা চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানু। ছোট পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি ৩১ একর জমিতে ২২টি পুকুরে জি-থ্রি রুইসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনে স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রায় ২০টি পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে মৎস্য চাষে ঝুঁকছেন। নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানুর এখন বার্ষিক আয় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা।
২০১৫ সালে নিজ গ্রাম দিনাজপুর দক্ষিণ কোতোয়ালির মালিগ্রামে দুটি পুকুর লিজ নিয়ে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়া পোনা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম বছরেই সাফল্যের মুখ দেখেন তিনি।
পরের বছর গ্রামের আরও তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছের পোনা উৎপাদনের বিস্তৃতি বাড়ান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানুকে।
বর্তমানে নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বড়গ্রাম ও কমলপুরে ৩১ একর জমিতে ২২টি পুকুরে জি-থ্রি রুইসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করছেন তিনি।
সাদেকা বানু বলেন, ‘আমার ফিরে তাকানোর সময় নেই। এখন আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। দুটি পুকুর থেকে আমার এখন ২২টি পুকুর। ৩১ একর জমিতে এই ২২টি পুকুরের মধ্যে তিনটি পুকুরে গত বছর থেকে জি-থ্রি রুই মাছের পোনা উৎপাদন করছি। এতে অনেক সাফল্য এসেছে। এ পোনা মাছের চাহিদাও অনেক। আমি হিসাব করে দেখেছি, সব বাদ দিয়ে আমার এখন বার্ষিক আয় থাকে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। ভাবছি, আরও কিছু পুকুরে এই জাতের মাছের পোনা উৎপাদন করব।’
স্বামী বেলাল হোসেনও অন্য পেশা ছেড়ে স্ত্রীকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। পুকুরগুলো তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন তিনি। এ বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি পুকুরে ওয়ার্ল্ডফিশ উদ্ভাবিত ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুইয়ের পোনা উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। এতেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
রুই মাছের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পায় জি-৩ রুই। তাই জি-৩ রুই পোনার ব্যাপক চাহিদা থাকায় পোনা মাছ বিক্রেতারা তার পুকুরে ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে তার পুকুরের উৎপাদিত পোনা জেলা ছাড়িয়ে সারাদেশে সরবরাহ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে পুকুরপাড়ে কথা হয় পোনা মাছ নিতে আসা অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, পোনা মাছ কিনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানুকে এ বিষয়ে প্রথম থেকেই সহায়তা করে আসছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মাছের পোনা উদ্যোক্তা তৈরিতে মহিলাদের নিয়ে সমিতির মাধ্যমে কাজ করছে এসব প্রতিষ্ঠান। শ্যামলী মহিলা সমিতি নামে এমন একটি সংগঠনের সদস্য সাদেকা বানু, যার সদস্য সংখ্যা ১,৯৪০ জন।
দিনাজপুর জেলা মৎস্য বিভাগের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তারিখুর রহমান সরকার জানান, ওয়ার্ল্ডফিশ উদ্ভাবিত ‘তৃতীয় প্রজন্ম’ বা জি-৩ রুইয়ের পোনা উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা সাদেকা বানু। তার সাফল্যে এখন অনেকে অনুপ্রাণিত। আমরা সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছি। অন্যরাও চাইলে এ সহায়তা পাবে। আমরা চাই নারীরা আরও এগিয়ে আসুক এ ধরনের কার্যক্রমে। এসব কাজে তাদের সাফল্য পাওয়ার বেশি সুযোগ থাকে।
দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে আসছেন তার মাছের খামার দেখার জন্য।
