
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে পান বরজে ব্যবহৃত খৈল কেনাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে আরও মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। আহত দেবরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ভাবি আইরিন খাতুন (৫০)।
বুধবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে পীরপুর গ্রামের বিশ্বাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, সোহেল ও রঞ্জু, তারা উভয়ই একই এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। নিহত আইরিন খাতুন ওই গ্রামের মৃত খোকন বিশ্বাসের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পান বরজে ব্যবহৃত খৈল কেনা নিয়ে সোহেল ও রঞ্জুর মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা উত্তেজনায় রূপ নিয়ে মারামারিতে গড়ায়। একপর্যায়ে লাঠিসোটার আঘাতে দুজনই আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সোহেল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও রঞ্জুকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, মারামারির খবর শুনে আহত রঞ্জুকে দেখতে ঘটনাস্থলে যান তার ভাবি আইরিন খাতুন। হাসপাতালে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে ফেরার পর তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন,, পান বরজের খৈল কেনাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইরিন খাতুনের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি তার দেবরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বাড়িতে মারা যান। তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।