ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ

চুয়াডাঙ্গায় গরমের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে বইছে মৃদু তাপ প্রবাহ। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তাপমাত্রা গড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। এতে গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ।

দুই সপ্তাহ আগেও হালকা শীতের আমেজ থাকলেও হঠাৎ তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলায় নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত কয়েকদিন বৃষ্টি না থাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৯ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সামনের সড়ক সহ দেশ কয়টি স্থানে থোক থোক কয়েক জায়গায় রাস্তার পিচ গলে গেছে। মোটরসাইকেল-যানবাহন চলাচলের সময় তা গাড়ির টায়ারেও লেপ্টে যাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে অনেকটা।

জীবননগর উপজেলা শহরের মোড়ে একটি ফলের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা উপজেলার মারুফদহা গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, এই জেলায় আমার বুদ্ধি জ্ঞান হয়ে দেখে আসছি শীতের সময় শীত বেশি অনুভব হয়। আবার গরমের সময় গরম বেশি। এখনো গরমের মৌসুম সেভাবে আসে নাই, এখনিই দেখছি রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার তাপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। একটা অসহনীয় অবস্থা।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন শ্যামপুর গ্রামের ভ্যান চালক বকুল মিয়া বলেন, রোদের তীব্রতার কারণে ভ্যান চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। যাত্রী নেই বললেই চলে রোদের কারণে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি তেল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটর সাইকেল চালক হায়দার আলী বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে পেট্রোল নেওয়া খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।

আরেক চালক ফারুক হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।

শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা,তাপমাত্রা,তাপপ্রবাহ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত