চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ড, প্রস্তুত ১০ হাজার
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জেলায় দেখা দেওয়া তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে এবং কালোবাজারি রুখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ কার্যক্রম। গত তিন দিনে জেলায় ৩৪ হাজার মোটরসাইকেল ও যানবাহন চালকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও ১০ হাজার কার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম চলমান থাকলেও জেলার পাম্পগুলোতে যানবাহন চালকদের লম্বা লাইন এখনো অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। মধ্যরাত থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।
তবুও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রুখতে ও সুষম বণ্টনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার সূচনা করা হয়েছে। তবে জনমনে একটি প্রশ্ন রয়েই গেছে—ফুয়েল কার্ড পেলেও জ্বালানি তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তি কি আসলেই কমবে?
বেশ কিছুদিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছিল। এই সুযোগে একদল অসাধু চক্র ড্রাম ও গ্যালনে তেল ভরে অবৈধভাবে মজুদ করছিল, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি চালু করে এবং সেই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার ২২টি পেট্রোল পাম্পে ২২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করে। প্রশাসন জানায়, এখন থেকে চুয়াডাঙ্গার যেকোনো পাম্পে তেল নিতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই এই ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রদর্শন করতে হবে। কার্ডে যানবাহনের তথ্য ও তেলের পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকবে। এর ফলে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে পারবে না এবং ড্রাম বা গ্যালনে তেল বিক্রি বন্ধ হবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ চালকরা। ফুয়েল কার্ড হাতে তেল সংগ্রহ করতে আসা মোটরসাইকেল চালক ফারুক হোসেন বলেন, যেদিন থেকে শুনেছি আর তেল পাওয়া যাবে না, সেদিন থেকেই পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখছি। আমার মোটরসাইকেলের তেলের জন্য আমিও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখন হাতে ফুয়েল কার্ড পেয়েছি, কিন্তু অনেককে দেখছি ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল নিতে এসেছেন। ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম পরিপূর্ণভাবে চালু হলে অবৈধ তেল মজুদ ও পাম্পে বিশৃঙ্খলা বন্ধ হবে বলে আশা করছি। তবে এক্ষেত্রে প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম. তারিক উজ জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় মোট ৩৪ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। যে সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়েছিল, তার সব কার্ডই আমরা ইতিমধ্যে বিতরণ করে দিয়েছি। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফুয়েল কার্ডের আবেদনের সময়সীমা শেষ হবে। আজকের দিনের জন্য ১০ হাজার ফুয়েল কার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকল যানবাহন চালক নিজ নিজ উপজেলায় আবেদনপত্র জমা দিয়ে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
বর্তমানে জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের বিশেষ টিম ও পুলিশ সদস্যরা তদারকি করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্ডের মাধ্যমেই তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
