ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ইউনিয়ন গঠন প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বিভক্তির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিসহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

দুপুর ২টার দিকে বাসুদেব ইউনিয়নের লোকজন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভক্তির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন

এসময় জেলা বিএনপির সাবেক প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক নুরুল হুদা সরকার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাসুদেব ইউনিয়নের মোর্শেদ মিয়া, খোকন মিয়া, হেলাল মিয়া, মারুফ মিয়া, জসিম উদ্দিন, সেলিম মিয়া, কামাল উদ্দিন খান, জসিম উদ্দিন, সোহেল রানা, নাজু মিয়া, জসিম উদ্দিন খান, মিজানুর রহমান, খায়রুল ইসলাম, বাসুদেব ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হান্নান খলিফা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সঞ্চালনা করেন জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মাহমুদ।

অবস্থান কর্মসূচিতে ইউনিয়নের লোকজন জানান, আমরা সদরে আছি এবং সদরে থাকতে চাই। আমরা কোনো উপজেলার ভাড়াটে ভোটার হতে চাই না। এই ইউনিয়নকে কোনোভাবেই ভাঙতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা রক্ত দেবো। কোনো বিশেষ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে একটি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামকে পৃথক করে নতুন ইউনিয়ন করে অন্য উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবো না।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. জাহাঙ্গীর আলম ভৃঁইয়া নামে একজন ইউনিয়ন বিভক্তিতে আপত্তি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাসুদেব ইউনিয়নটি দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর যাবৎ বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পরিচিত। ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়ন। ইউনিয়নের ৩৬ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছে। এটি সদর উপজেলার একটি অতি প্রাচীন ও জনবহুল স্বনামধন্য ইউনিয়ন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল জনগণের মতামত গ্রহণ না করেই বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম- চান্দি, কোড়াবাড়ি, কোড্ডা, শ্যামনগর, বরিশল, বৈষ্ণবপুর-কে বিভক্ত করে দুই ভাগে ভাগ করে বরিশল ইউনিয়ন নামে আরেকটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করার পাঁয়তারা করছে। সরেজমিনে তদন্ত না করে নিয়মভঙ্গ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাতারাতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। ফলে ইউনিয়নের সকল জনগণ ইউনিয়ন বিভক্তির বিরুদ্ধ সোচ্চার হয়। ইউনিয়নটি তিতাস নদীর পশ্চিমে অবস্থিত। ভৌগোলিক ও আর্থ সামাজিক কারণে বাসুদেব ইউনিয়নটির বিভক্তিতে নারাজ সাধারণ জনগণ।

উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সদস্য সদর উপজেলার কবির আহমেদ ভূঁইয়ার এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপসচিব মো. সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রামকে সমন্বয় করে আখাউড়া উপজেলার অধীনে ‘বরিশল ইউনিয়ন’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের নির্দেশ দেন।