সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল সংকট: চরম বিপাকে পেশাজীবীরা

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেলের চলমান সংকটে সাতক্ষীরায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ক্ষুদ্র চাকরিজীবীরা।

৭-৮ ঘণ্টার মতো দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা যেমন তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি পেশাগত দায়িত্ব ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করাও হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব।

প্রখর রোদ ও তীব্র ভ্যাপসা গরমে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানায়, জেলায় নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেলের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ৪৫৬টি। তবে জেলায় অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ হাজারের বেশি।

এছাড়া রয়েছে ৫ হাজারের বেশি বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ ও মহেন্দ্র। এসব যানবাহনের জ্বালানি মেটাতে রয়েছে ১৭টি পেট্রোল পাম্প।

ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে মাথাপিছু মাত্র ৩০০ টাকার। সকাল থেকেই সেখানে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে স্বজনপোষণের।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক শিক্ষক সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত জেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। দুর্ঘটনা, দুর্যোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সাংবাদিক সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।

এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, জরুরি ও জনসেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কথা বিবেচনা করে সাংবাদিক, বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত এসআর, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স চালক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত এবং জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা উচিত। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ পাম্প মালিক সমিতির কাছে জোর দাবি জানান।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, জেলায় জ্বালানি সংকট তৈরির পর থেকে সংকট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শতাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৮০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৬ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।