নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টাক্ষেতে মিলল কিশোরের মরদেহ
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটি বরাটিয়া মাধাইনগর অংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. আবীর হোসেন (২০) উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটি বরাটিয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিহতের বাবা বাদী হয়ে ওই এলাকার মাহমুদুল (২০), খেয়া আক্তার (১৮) দম্পতিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আ. রশিদের মেয়ে খেয়া আক্তারের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত বছরের ১৭ নভেম্বর খেয়াকে নাটোর থেকে নিকলীতে নিয়ে আসেন মাহমুদুল এবং ১৯ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। মাহমুদুল ও নিহত আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে খেয়ার কথাবার্তা চলত। এক পর্যায়ে আবীর ও খেয়ার মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর মাহমুদুল আবীরকে হুমকি দেন। এর দুই দিন পর থেকেই আবীর নিখোঁজ হন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৯ মার্চ থেকে আবীর নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১৩ মার্চ তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। গতকাল সন্ধ্যায় কয়েকজন কৃষক ভুট্টাক্ষেতে একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবীরের স্বজনদের খবর দিলে তার বাবা ছেলের পরনের কাপড় দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের বাবার মামলার ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহমুদুল ও তার স্ত্রী খেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
