ঈশ্বরদীতে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে তিনটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাশুড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার।

অভিযানকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি ফার্মেসির মালিককে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ওষুধ বিপণীর স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা, হক ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা এবং খোকন পোল্ট্রি ফার্মেসির মালিক খোকনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে এসব ফার্মেসিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ মজুত থাকার প্রমাণ মেলে। পরে জব্দকৃত অবৈধ ওষুধ ধ্বংস করা হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিকভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তুলনামূলক কম জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডও দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শহর ও ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন হাটবাজারে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ বিক্রি করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য মহাবিষ।

নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন এসব ওষুধ প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ওষুধের গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য অনেক ওষুধ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মধ্যে রাখতে হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন নকল ওষুধ বিক্রি ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রাণী চিকিৎসক না হয়েও, কোনো প্রকার ডিগ্রি ছাড়াই অনেকে পশু চিকিৎসক সেজে বসেছেন। তারা পশু চিকিৎসা করে বেড়াচ্ছেন, যা প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন হাতুড়ে (স্থানীয়ভাবে যাদের ‘কুয়াক ডাক্তার’ বলা হয়) পশু ডাক্তারের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, নিজেকে পশু ডাক্তার বলতে লজ্জা লাগে। এমনকি তারা পশু চিকিৎসক সেজে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি মানিব্যাগ থেকে কয়েকটি ভিজিটিং কার্ড বের করে এ প্রতিনিধিকে দেখান এবং বলেন, যারা চিকিৎসক না হয়েও তাদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা হয়েছে।

এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।