ঈশ্বরগঞ্জে ২০ মাস পর জুলাই শহীদ রাব্বির মরদেহ উত্তোলন
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণ আবু সুফিয়ান রাব্বির (১৯) মরদেহ দীর্ঘ ২০ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের নির্দেশে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুবাইল গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় পুনরায় তাকে একই স্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
নিহত রাব্বি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরপুবাইল গ্রামের বাসিন্দা হলেও পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবার ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাওনা এলাকায় আনন্দ মিছিল বের হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাব্বি ওই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি মাওনা শহীদি মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিজিবির একটি বহরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর উস্কানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দলীয় ক্যাডারদের হামলায় রাব্বি পায়ে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাওনার একটি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ আগস্ট রাব্বি মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই ১৭ আগস্ট তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল।
রাব্বির মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মানবাধিকার কর্মী লেবু মিয়া বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শ্রীপুর আমলী) আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো পুলিশের উপ-পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু নোমান বলেন, “সে সময় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আজ মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাঃ সাব্বির হোসাইন জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি পুনরায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
