শহীদ আবু সাঈদ হত্যা
সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা-মা
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা আদেশ দিয়েছে সেই বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই তো বাঁচি গেলো।’ এসময় আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের সবার ফাঁসি দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকায় রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।
হত্যাকাণ্ডে ‘মাত্র দুইজনকে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মকবুল হোসেন বলেন, “ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলের গলা টিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হল না। আরও কঠোর সাজা দেওয়া দরকার ছিল। আরও অনেককে ফাঁসি দেওয়া দরকার।”
রায়ে পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোটদের সাজা দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আমার দাবি, যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ধরে এনে ফাঁসি দিতে হবে।”
আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মকবুল হোসেন।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আরও বেশি আসামির ফাঁসি দিলে খুশি হতাম। এ রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার।”
জুলাই আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করে। বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর ট্রাইবুনালের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন।
যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিনজন হলেন— তখনকার সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। পৃথক ধারায় এ তিনজনের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে।
এ মামলায় মোট ৩০ আসামির সবাই দণ্ডিত হয়েছেন। বাকি ২৫ আসামির মধ্যে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে ৫ জনের, পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে ৮ জনের এবং ১১ জনের হয়েছে ৩ বছরের সাজা। অপর একজনের হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দণ্ডিতদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ছয়জন কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
