স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরে তালা লাগিয়ে পালালো স্বামী!
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৬ | অনলাইন সংস্করণ
শ্রীপুর ( গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে অপু নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেড়াইদেরচালা গ্রামের মাসুদ মিয়ার বাড়িতে।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অপু দম্পতির ভাড়া ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।
ষোল বছর বয়সী ঝর্ণা আক্তার ওই গ্রামের মোহাম্মদ হামিদ মিয়ার মেয়ে। পলাতক অপু কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার দড়িচড়িয়াদী গ্রামের মোহাম্মদ হযরত আলীর ছেলে।
জানা যায়, স্ত্রী হত্যার অভিযুক্ত অপু পেশায় বাসচালক। প্রেম করে পরিবারের অমতে দুই বছর আগে ঝর্ণাকে বিয়ে করেন অপু। তবে ঝর্ণার পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। অপু ঝর্ণাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে ভাড়া থাকতো।
দুই মাস পূর্বে মাসুদ মিয়ার বাড়ির দু্ই তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন তারা। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অপু ও ঝর্ণাকে স্থানীয়রা দেখতে পাননি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অপু ফোন করে বান্ধবী তানিয়াকে স্ত্রী হত্যার বিষয় জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে তানিয়া বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। পরে রাতে পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙে ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করে।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী জানান, বাড়ির দুটি কক্ষের মধ্যে নিজেরা থাকেন। বাকি পাঁচটি ঘরে থাকতো ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া। একটি কক্ষে থাকতো অপু দম্পতি। তবে এপ্রিলের এক তারিখে সব ভাড়াটিয়ারা চলে যায়। দোতলার একটি কক্ষে থাকতো অপু। তারা বাসায় রান্নাবান্না করতো না। বাইরে থেকে খাবার এনে খেতো। সব শেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপু দম্পতিকে দেখেছিলেন জানিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী বলেন, তারপর থেকে অপু ও ঝর্ণার চলাফেরা করতে দেখা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অপুর বান্ধবী তানিয়ার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি।
শ্রীপুর থানার (ওসি) মুহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে।
