সিরাজগঞ্জে সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করে চলছে হতদরিদ্র মানুষের সংসার
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

যমুনা নদীর অদূরে খোকশাবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করছেন। এ ঝুরি তৈরিতে এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এ ঝুরি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর দফায় দফায় ভাঙনে খোকশাবাড়ি গ্রামের বহু পরিবার নিঃস্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে অনেক পরিবার স্থানীয় ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ বাঁধে পূর্বপাড় খোকশাবাড়ি গ্রামের প্রায় ২০টি হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন ঝুরি তৈরি করছেন কয়েক যুগ ধরে। এ ঝুরি বিক্রি করে তাদের ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ চালাচ্ছেন সংসার। আতব চালের গুড়া দিয়ে দিনরাত ঝুরি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ ঝুরি সকালে বাড়ির আঙিনা ও মাঠ জুড়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। পরে তা বালুতে ভেজে বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়।
প্রতি সপ্তাহের দুইদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এ সাদা ঝুরি ক্রয় করে নিয়ে যায়। এছাড়াও গৃহবধূরা এ ঝুরি চিনি ও গুড়ে মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে। সুস্বাদু এ ঝুরি বিভিন্ন হাট বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে থাকে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রামগঞ্জের মেলায় এ ঝুরি বিক্রি করা হয়। সুস্বাদু এই ঝুরির কদর অনেক। বর্তমানে অনেক বেকার যুবক ঝুরি ক্রয় করে নিয়ে হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জে বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে ওই গ্রামের ঝুরি তৈরির পরিবারের ফারুক হোসেন (৩৭), মানিক (২৬), সম্পদ আলী (৩৫) ও মর্জিনাসহ (৩০) অনেকেই বলছেন, যমুনা নদীর ভাঙনে এ গ্রামের বহু পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এ ভাঙনে অনেকে নিঃস্ব হয়ে স্থানীয় ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে কয়েকযুগ ধরে। তারা বিভিন্ন পেশায় জীবনযাপন করছে। সেই সাথে ঝুরি তৈরি করেও সংসার চালাচ্ছে অনেক পরিবার।
১ মণ ঝুরি তৈরি করতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমণ ঝুরি পাইকারদের কাছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে মেলা ও হাট বাজারে এই ঝুরি বিক্রিতে লাভ বেশি হয়। ডিসেম্বরের প্রথম থেকে জুন পর্যন্ত এ ঝুরি তৈরির ব্যাবসা ভালো হয়। এ বিষয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা দাবি করেন তারা।
