রংপুরে চাঁদাবাজি ও নির্মাণ শ্রমিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১০ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুর মহানগরীতে চাঁদাবাজি ও মালিক কর্তৃক নির্মাণ শ্রমিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করেছেন রংপুর বিভাগীয় শ্রমিক সমাজ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে নগরীর টাউন হলের সামনে রংপুর বিভাগীয় শহর ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে রংপুর বিভাগীয় শহর ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম সাগর।
ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খোকনুজ্জামান জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন।
এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরমানসহ বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রংপুর বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল পৃথক দুই ঘটনায় নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। নগরীর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কাছে বেলাল নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করে। শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
অন্যদিকে, একই দিনে দেওডোবা বানিয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে প্রবীণ শ্রমিক ফজলুর রহমান, তার স্ত্রী ও সন্তান মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যক্তি আফসার আলী ভোলা ও তার জামাতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে অভিযোগ করে বলা হয়, উভয় ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। এতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তারা আরও বলেন, “দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”
এ সময় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে রংপুরে সকল সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
উক্ত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান বলেন, ঘটনার দিনেই মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে। বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
