গজারিয়ায় বাসা থেকে যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে রাত সাড়ে এগারোটায় এক যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে এগারোটায় তিন অপরিচিত লোক ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানান নিহতের বোন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক দুইটায় মুমূর্ষু অবস্থায় গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া স্কুলের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক রাকিব (২৩)। গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে। জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে তারা উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া থাকতেন।
নিহত রাকিব এক সময় নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে থাকতেন। তবে গত দুই বছর আগে তার পরিবার শিমুলিয়া গ্রাম ছেড়ে বাউশিয়া ইউনিয়নে চলে আসে। পরিবার নিয়ে মধ্য বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া থেকে নিহত রাকিব সুপারস্টার ফ্যান কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
নিহত রাকিবের বোন আখি আক্তার বলেন, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটায় তিন যুবক গাড়ি নিয়ে বাউশিয়া গ্রামে আমাদের ভাড়া বাসায় আসে। তারা রাকিবকে বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে নিয়ে যায়। একটি অটো রিক্সায় কৌশলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর আমিও পিছনে পিছনে গেলে তারা বহুদূর চলে যায়। খুঁজতে খুঁজতে রাত আনুমানিক দুইটা-আড়াইটায় শিমুলিয়া স্কুলের সামনে রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পাই। এখানেও তিনজন ১৩/১৪ বছরের ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
রাকিব তখন তাকে মারধর করার কথা জানায়। কয়েকবার পানি খাওয়ার আকুতি জানায়, তার মাথায় পানি দিতে বলে, কিছুক্ষণ পড়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান সুজন বলেন, নিহতের শরীরে বড় কোনো জখমের চিহ্ন নেই। তবে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিক তদন্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
