কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে: রাসিক প্রশাসক রিটন

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

সোমবার থেকে আগামী ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর ৪৩৮টি কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা দেওয়ার পরে অনেকে অসুস্থ হতে পারে, জ্বর হতে পারে—আপনারা কোনো ভয় পাবেন না। কোনো শিশু যেন এ টিকা থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে সবাই লক্ষ্য রাখবেন বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীতে আরবান পিএইচপি সেন্টারে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাসিক প্রশাসক এসব কথা বলেন।

মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, আমরা চাই হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটি যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে পারি। আমাদের এতগুলো প্রাণ ঝরে গেছে—এ জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত এবং মর্মাহত। বিগত সরকারের আমলে দুই বছর টিকা ক্যাম্পেইনের অভাবে আমাদের দেশে অনেক শিশুর তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। আমরা চাই না আগামী দিনে কোনো শিশু হাম রোগে মৃত্যু বরণ করুক।

তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে হামের প্রকোপ যখন বেড়ে গিয়েছিল তখন আমরা সচেতনতামূলক একটি লিফলেট তৈরি করি। এই লিফলেট প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের নিকট এবং বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই রাজশাহী মহানগরী নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে উঠুক। সেজন্য এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন এবং যারা এই শিশুদের জন্য কাজ করছেন তারা সতর্ক থাকবেন যেন অবহেলা না হয়। এ সময় তিনি মহানগরীর সকল অভিভাবকদের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান এবং শিশুদের মধ্যে কোনো হাম-রুবেলা রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন।

অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব মো. সোহেল রানা, রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম, আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. কুস্তরী আমিনা কুইন এবং রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত ১৪ কর্মদিবসে রাজশাহী মহানগরীতে কমিউনিটি পর্যায়ে ৪৫ হাজার ৬২৩ জন শিশুকে এবং স্কুল পর্যায়ে ৮ হাজার ৫২১ জন শিশুসহ সর্বমোট ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

নগরীর ২৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮০টি কেন্দ্র, ২৪০টি কমিউনিটি কেন্দ্র এবং ১৮টি স্থায়ী কেন্দ্রসহ সর্বমোট ৪৩৮টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রতিটি অস্থায়ী কেন্দ্রে ২ জন টিকাদানকারী ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং স্থায়ী কেন্দ্রে ১ জন টিকাদানকারী ও ১ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছে।