সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারী
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার নারী মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন— বিএনপি থেকে সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিয়া পাঠান পাপন এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে মারদিয়া মমতাজ ও শহীদ জননী রোকেয়া বেগম।
জানা যায়, নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর গ্রামের হাজি মফিজুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করে আসছেন। তিনি ‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক এবং ২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন। তুলি এর আগে ঢাকা-১৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা তুলি মানবাধিকার আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ।
বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেনের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন ছাত্ররাজনীতি থেকেই সক্রিয়। তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ জেলা শহরের পাইকপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মাসুম মঞ্জিলের বাসিন্দা। তার পিতা ইঞ্জিনিয়ার মমতাজুল করীম জামায়াতের কেন্দ্রীয় সংগঠনে বহু বছর কাজ করেছেন। মাতা বেগম সালেহা মমতাজও জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নবীনগরের রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রাম তার পৈতৃক আদিনিবাস। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন প্রকৌশলী, গবেষক ও লেখক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
এছাড়া আখাউড়া উপজেলার তুলাইশিমুল গ্রামের রোকেয়া বেগমও জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তার সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই চার নারীর মনোনয়ন জেলার রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
