তেল পাচার রোধ ও ঈদ উপলক্ষ্যে বিজিবির বিশেষ কর্মসূচি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধ, আভিযানিক সফলতা এবং আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে খুলনা ২১ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি-র সদস্যরা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ৬শ’ কিলোমিটার বিস্তৃত। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করছে।
বর্তমানে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার এবং কারণ ছাড়া মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ, কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও পশু চোরাচালান রোধ, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাপক ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ প্রেক্ষিতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বেনাপোল, ভোমরা এবং দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানির যানবাহনে ২৪ ঘন্টায় ১৩টি বিশেষ নজরদারি-তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সমস্ত দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২টি তেল পাম্পে চেকিং এবং শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে যাচ্ছে। ভোজ্য ও জ্বালানি তেল চোরাচালান রোধে বিশেষ রুট চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিসহ ৯৮৫ চেকপোস্টের মাধ্যমে এ যাবত ২ হাজার ৭৬০টি টহল পরিচালনা করেছে বিজিবি। এছাড়া ১ হাজার ৪০টি বিশেষ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে যৌথভাবে ৪৩টি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দসহ ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী-ডিলারকে ৬২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে বিজিবি বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যশোর রিজিয়ন সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চলতি ২০২৬ সালে ১০৩ জন আসামিসহ সর্বমোট ৬৩ কোটি ১৭ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানি মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ২.৬১৯৬৪ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম হীরক, ১০.৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৪৭০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৯ হাজার ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ গ্রাম হেরোইন, ৪ হাজার ৮৯৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ সর্বমোট ২২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
