যে কারণে দুর্গাপুরে কলেজে নারী শিক্ষক ও বিএনপি নেতাদের সংঘর্ষ
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর দুর্গাপুরের একটি কলেজে নারী প্রদর্শক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অধ্যক্ষের কক্ষ ও ক্যাম্পাসের ভিন্ন সময়ের দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনার জেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন বিএনপির এক সহসভাপতিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। কলেজের নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা ও বিএনপি কর্মী শাহাদ আলীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একাধিক দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়।
জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। এ সময় স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকর্মী সেখানে আসেন। বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে কলেজ মাঠে গাড়ি রাখাসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে অফিস কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
অধ্যক্ষের কক্ষে উত্তেজনার মধ্যে আলেয়া খাতুন হীরা ও শাহাদ আলীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই নারী প্রদর্শক শাহাদ আলীর দিকে চড়াও হন এবং তার কর্মকাণ্ড মোবাইল ফোনে ধারণ করতে থাকেন। পরে শাহাদ আলী স্যান্ডেল খুলে তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকও আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে এ উত্তেজনা ক্যাম্পাসের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আকবর আলীর ওপরও চড়াও হন আলেয়া খাতুন হীরা। সেখানে তাকে মারমুখী আচরণ করতে দেখা যায়।
অভিযুক্ত শাহাদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রথমে তার ওপর হাত তোলেন ওই নারী প্রদর্শক। অন্যদিকে আলেয়া খাতুন হীরা দাবি করেন, কলেজের অর্থসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষকে মারধর করা হচ্ছিল, তিনি প্রতিবাদ করায় তাকে জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়।
আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, আকবর আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে আফাজ আলী, শাহাদ আলী, জয়নাল আলী, এজদার আলী, রুস্তম আলী ও জামিনুর ইসলাম জয় ছিলেন বলে জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী বলেন, পূর্বের দুর্নীতির হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই আগে হামলা করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কোনো পক্ষকে প্রশ্রয় না দেওয়ায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
